Thursday, 25 April 2024

প্রদীপ

প্রদীপ

অতন্দ্রিল নিষ্পেষণে কেটে যায় দিন,
রাতের পাংশু চাঁদ ফুটবলের মত গড়িয়ে
নেমে আসে ; পড়ে থাকে— পরিত্যক্ত আবর্জনাস্তুপে ৷

এ পথে অনেকে এসেছে, অনেক পায়ের ক্ষয়—
হৃদয়ের ক্ষতে জল জমে দুর্গন্ধী-মলিন পৃথিবীর মত
আবছা হয়েছে— উবে গেছে স্পিরিটের মত
মানুষের বেদনার নীলাভ মালা— অথবা কর্পূর ৷

কোনোদিন তোমাকে পাবোনা ভাবিনি !
স্বার্থপর মানুষের মত পৃথিবীর অধিকারে
একচ্ছত্র ভোগলিপ্সায় নিভিয়ে ফেলি যাবতীয় টিমটিমে দীপ ৷

রবারের মত ক্ষয়ে ক্ষয়ে মরে যায় চাঁদ ৷
তারপর অন্ধকার— মনে হয় কাপাস ফলের মত
সশব্দে ফেটে গেছে আমাদের মন ; গভীর শূন্যতায় ভেসে
নেমে আসি বাস্তব-বালিতে, কোনো এক
স্রোতহীন মেদহীন নদীর সর্পিল দেহের আলিঙ্গনে,
আকণ্ঠ নিমজ্জনে নিজেকে শীতল-পাণ্ডুর মনে হয়;
মনে হয় অনেককাল নিজেই বাঁচিনি ৷

আবার মানুষ হলে প্রাণভরে বেঁচে নেব,
শিখে নেব মৃতপ্রায় বালিদের দেহে
আগুন জ্বালবার কৌশল— যেভাবে
দীপাবলীর রাতে নিজেকে পুড়িয়ে তুমি জ্বালাতে— প্রদীপ ৷



©মানস সবুজ নিয়োগী

Tuesday, 13 August 2019

নিষাদ

নিষাদ

একটা নিষাদ জেগে আছে—
মধ্যরাতে বালিমাখা পা— শজারুর
বংশাবতংশের মাঝখান দিয়ে হেঁটে যায় ৷

প্রতিরাতে বুক থেকে একটা করে
নিভন্ত পাখি উড়িয়ে দিই,
যাদের ডানার কোণ টনটনে বেদনায় নীল...

তীরের ডগার আগুনের শলাকার মত
আধপোড়া হয়ে পড়ে আছে
ছিন্নদেহী শহীদের শব—
নিঃশ্চুপে ফিরে গেছে 
অবেলার পাখিদের কলরব—

তবুও একটা নিষঙ্গ জেগে থাকে,

পৃথিবীর নিষঙ্গীর খোঁজে...


©মানস সবুজ নিয়োগী

হিজিবিজিমালা

হিজিবিজিমালা

একের পিছনে দুই—মাছের খানি—কেটে যাচ্ছে দিন, পিত্তাশয়ে অতিরিক্ত অম্লভাব, অ্যাডিস বৃষ্টির কারণ হয়ে উঠি, আর কিছুদিন গেলে আমায় মাছ বলে ডেকো ৷ আমার গায়ে অজস্র পাতা গজাচ্ছে, গায়ের রোম উবে গিয়ে জেগে উঠছে আদিম একটা দ্বীপ, সুন্দরী গরান গেঁও... বুকের ওপর স্বাদু থাবা বসিয়ে হেঁটে আসছে বাঘ, আমার চোখের দেশে চোয়ানো জল খেয়ে শজারুর কাঁটায় বেঁধা ঘা চেটে চেটে নিচ্ছে— একটানা বৃষ্টির মাঝে রাস্তার খন্দ হয়ে দেখেছো কখনও? কেমনভাবে জলের ছিটেয় কুঁচকে ওঠে তরুণীর মুখ? একটা রাস্তা হয়ে শুয়ে পড়ি মাঠের মাঝ বরাবর ৷ হাল নিয়ে মাটির মতই কৃষকের ফাটা পায়ের স্বাদ বুকে মেখে নেব বলে আজন্ম শুয়ে থাকি—অথবা তোমার আলতাছোপ আর রক্তের মধ্যে তফাৎহীন পা শুঁয়োপোকার মত এগিয়ে আসবে! রাত্রি মাতাল হয়ে চঞ্চু দিয়ে খুবলে নেবে মাথা— তবু আমি নিদ্রাহীন জেগে — নিঃশব্দে মেখে নেব জোনাকির রোদ, আতালিপাতালি এসে আমার সাথে মিশে রাস্তা হয়ে উঠবে তুমি, দেখবে খন্দদের মাঝে কষ্টমেখে বেঁচে আছে শুভ্র দুটি হাঁস—বহুকাল হল যাদের ডানার নিচে মেদের বদলে রক্ত জমে গ্যাছে...



©মানস সবুজ নিয়োগী

Monday, 3 July 2017

দশ মিনিট

               দশ মিনিট

এ রাস্তায় আর বাস আসবে না
                          দশ মিনিট ।
পথের এ ইচ্ছেমতো ভেজা
দাড়িয়ে দেখছে আড়চোখ,
গড়ানো জল-ধুলো
ভিজিয়ে যাচ্ছে পা,
আর জলের বেসাতিতে মত্ত মেঘ ।
আগে জানা ছিল না
প্রেম থেকে প্রতিহিংসাও জন্মে ।
কয়েকটা বিদ্যুৎ ভেঙে ফেলে মাঠ,
আরেকটা ভূমিকম্প বয়ে যায়
পৃথিবীর রক্ত-মাংস চিরে---
ফাটলটা এগিয়ে এসে দাঁড়ায় রাস্তায়,
দুহাত তুলে বলে---'থামো'
এ রাস্তায় আর বাস আসবে না
                          দশ মিনিট ।

Sunday, 2 July 2017

পাঁজরে ঝড়ের শব্দ

       পাঁজরে ঝড়ের শব্দ


বারুদ আছে,আগুন তুমি এসো ৷
গলা দিয়ে নেমে যায় ম্যাগমাটিক লাভা,
নির্বাক জ্বালা আরও জান্তব হয়৷
শরীর জুড়ে খেলা করে
তোমার গলার স্বর--ভাইরাস !
আরও উত্তপ্ত হচ্ছে নিউরন,
কেউ বুকে নিচ্ছে বারুদ,
       কেউ আগুন!
গোলাপ আঁকা গ্লাস,
কেউ আগুনে ঢালে  জল ৷
ধোঁয়াভর্তি মুখ
বৃষ্টির রাতে টোকা দেয় দরজায়---
"আগুন তুমি জেগে?
 আমি শ্মশান থেকে আসছি! "



©মানস সবুজ নিয়োগী

প্রদীপ

প্রদীপ অতন্দ্রিল নিষ্পেষণে কেটে যায় দিন, রাতের পাংশু চাঁদ ফুটবলের মত গড়িয়ে নেমে আসে ; পড়ে থাকে— পরিত্যক্ত আবর্জনাস্তুপে ৷ এ পথে অনে...